Institution Info

মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী (নওশা মিঞা) এর মহৎ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা বিদ্যালয়ের জন্য ১১২ শতক জমি উদারভাবে দান করেন, যার উপর নির্মিত হয়েছে একাডেমিক ভবন ও সুবিশাল খেলার মাঠ।

সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এই বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মনোরম ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে এটি জুনিয়র পর্যায় (৮ম শ্রেণি পর্যন্ত) শিক্ষা প্রদান করত। পরবর্তীতে মাধ্যমিক শিক্ষা চালু হয় এবং বর্তমানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষাদান করে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে জুনিয়র এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০১৯ সালে মাধ্যমিক এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিনের সুনাম, অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী, এবং আধুনিক পাঠদানের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানসিক ও একাডেমিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

নবম দশম শ্রেণিতে তিনটি শাখা- ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও মানবিক শাখা চালু আছে।

প্রতি বছর বিভিন্ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে ভালো ফলাফল করে আসছে। এছাড়াও বিভিন্ন সহশিক্ষা মূলক কার্যক্রমগুলো বিদ্যালয়ে চালু রয়েছে।

মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিবাচক দিক সমূহ:

 

আলোকিত ভবিষ্যতের নির্মাতা — বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের আলোকিত, সুশিক্ষিত এবং নীতিবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার — এখানে গুণগত শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করা হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ — বিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শিক্ষার জন্য উপযোগী পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা — পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী — বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ গঠনমূলক ও আন্তরিক পাঠদানে অভিজ্ঞ, এবং শিক্ষার্থীদের বিকাশে নিবেদিতপ্রাণ।

সমৃদ্ধ সহশিক্ষা কার্যক্রম — সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, খেলাধুলা, ক্রীড়া ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভালো ফলাফল — বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফলাফল করছে।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার সংযোজন — আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার এবং ICT শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

শৃঙ্খলা ও বন্ধুসুলভ পরিবেশ — বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, নিরাপদ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হয়।

বৃত্তির ব্যবস্থা — বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আর্থিকভাবে দূর্বল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে পড়ার অবাধ সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

অভিভাবক ও সমাজের সাথে দৃঢ় যোগাযোগ — বিদ্যালয়টি অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

 

আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী (নওশা) মিঞা

প্রতিষ্ঠাতা

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার বাণী

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আলোকিত সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি। এই বিশ্বাস থেকেই আমি ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে “মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করি।

এলাকার মানুষের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকার কষ্ট আমি গভীরভাবে অনুভব করতাম। সেই দায়বদ্ধতা থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সম্পূর্ণ নিজস্ব জায়গায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করি, যাতে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়।

আমার একান্ত আশা ছিল—এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষা কেন্দ্র নয়, বরং একটি আলোর দিশারি হয়ে উঠবে; যা আগামী প্রজন্মকে সৎ, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

আমি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, যাঁদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এই প্রতিষ্ঠান আজকের অবস্থানে এসেছে।

আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি—এই বিদ্যালয় যেন যুগ যুগ ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়।

আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী (নওশা) মিঞা
প্রতিষ্ঠাতা
মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ চৌধুরী

প্রধান শিক্ষক

প্রধান শিক্ষকের বাণী

একটি স্বপ্ন, একটি দায়বদ্ধতা এবং একটি মহৎ উদ্যোগের ফলশ্রুতিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান “মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়”। ১৯৯৪ সালে আলোকিত সমাজ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে বিদ্যালয়টির ভিত্তি স্থাপন করেন সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী (নওশা মিঞা) সাহেব। তাঁর দূরদৃষ্টি, আত্মত্যাগ ও মানবিক চিন্তার ফসল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আমরা গর্বিত—এই বিদ্যালয় আজ এলাকার শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যজ্ঞানই অর্জন করে না, বরং নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাও লাভ করে।

একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের দায়িত্ব হলো—এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নেওয়া, শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি, যাঁর হাত ধরে এ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার শুভানুধ্যায়ীদের—যাঁদের অবিচল সমর্থন ও ভালোবাসায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

আসুন, সবাই মিলে এই প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞানের আলো ছড়ানো একটি আদর্শ শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে তুলি।

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ চৌধুরী
প্রধান শিক্ষক
মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়

মনোয়ার হোসেন চৌধুরী

সভাপতি
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বাণী

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই সত্যকে ধারণ করে মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আজহারুল হক চৌধুরী (নওশা মিঞা) মহোদয়ের দূরদর্শী চিন্তা, সমাজ ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের ফলে এই বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। গ্রামের মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, আজ তা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠান এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিক শিক্ষা, নৈতিকতা এবং দেশপ্রেম—এই তিনটি গুণ অর্জনের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠবে।

সভাপতি হিসেবে আমি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আমার আন্তরিক শুভকামনা এবং ধন্যবাদ জানাই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের, যাঁরা এ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মহান লক্ষ্যে সফলতা দান করুন।

মনোয়ার হোসেন চৌধুরী
সভাপতি
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি
মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়